ভারতে অ্যাপল ডিভাইসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, কোনো কোনো মডেলে দাম বাড়ল ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত

ভারতবর্ষের প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। বৃহস্পতিবার এক আকস্মিক ঘোষণায় ম্যাকবুক ও আইপ্যাড সিরিজের বিভিন্ন মডেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বজুড়ে চিপ ও স্টোরেজ উপকরণের আকাশচুম্বী চাহিদার দোহাই দিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হবে।
অ্যাপলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এম৫ চিপ সমৃদ্ধ ম্যাকবুক এয়ারের দাম ৩০ হাজার টাকা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকায়। একই সিরিজে ১৫ ইঞ্চির মডেলটির দাম ৩৫ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ম্যাকবুক প্রো-র ওপর; ১৪ ইঞ্চির প্রিমিয়াম মডেলটির দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন এই মডেলটি কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হবে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা।
শুধুমাত্র ম্যাকবুক নয়, আইপ্যাড সিরিজের ডিভাইসগুলোর দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ১৩ ইঞ্চির বেস মডেলের আইপ্যাড এয়ারের দাম ৩৫ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৯০০ টাকায়। এছাড়া এম৪ প্রসেসরযুক্ত ১১ ইঞ্চির আইপ্যাড এয়ারের দাম ২৫ হাজার টাকা বেড়ে ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজের আইপ্যাড প্রো-র দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেড়ে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে অ্যাপলের আয়ের প্রধান উৎস আইফোনের মূল্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এই মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারেও। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর বিশ্ব বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বাজারে পণ্য বিক্রিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামনের দিনগুলোতে আসন্ন নতুন আইফোনের দামেও এই চিপ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
চিপ ও মেমোরি উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দায়ভার এতদিন নিজেদের কাঁধেই তুলে রেখেছিল অ্যাপল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এআই ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে স্টোরেজ ডিভাইসের চাহিদায় যে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অ্যাপলের মুখপাত্রের দাবি, এতদিন গ্রাহকদের সুরক্ষায় তারা পণ্যের দাম স্থিতিশীল রেখেছিলেন, কিন্তু এখন সেই সক্ষমতার সীমা পেরিয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
