বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক সম্পদের নতুন উচ্চতায়

বিশ্বের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। শুক্রবার স্পেসএক্সের পুঁজিবাজারে অভিষেক এবং প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্যের অভাবনীয় উল্লম্ফনে ভর করে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিকানায় আসীন হয়েছেন। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্জনের মাধ্যমে মাস্ক ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস এবং বার্নার্ড আর্নল্টের মতো বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
মাস্কের এই সম্পদ বৃদ্ধি কেবল সময়ের ব্যবধানে ঘটেনি, বরং এটি বিগত ছয় বছরে এক উল্কার গতির প্রতিফলন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ২৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ৩৫তম স্থানে ছিলেন। অথচ পরবর্তী সাড়ে ছয় বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণায় নিয়োজিত স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্যের নাটকীয় উত্থান তাঁর এই দ্রুত সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তবে এই যাত্রা মোটেই রৈখিক ছিল না। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ধনী হওয়ার পর মাস্ককে একাধিকবার বাজার অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি—এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তাঁর নিট সম্পদমূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হ্রাস পায়। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনের সময় ২৬৪ বিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ত্যাগের সময় তাঁর সম্পদ ৩৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশেষ করে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও এবং এক্সএআই-এর সাথে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পদ কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ট্রিলিয়নের গণ্ডি স্পর্শ করে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইলন মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজের চেয়ে চার গুণ এবং মার্ক জাকারবার্গের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি সম্পদের অধিকারী। তবে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই বিশাল সম্পদের একটি বড় অংশই শেয়ারভিত্তিক এবং এর তারল্য নির্ভর করে বাজারের বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর। নিজের হাতে থাকা সম্পদের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম নগদ অর্থ হিসেবে দাবি করা মাস্ক বর্তমানে টেসলায় ১২ শতাংশ এবং স্পেসএক্সে ৪২ শতাংশের মালিকানা ধরে রেখেছেন।
মাস্কের এই উত্থান সমসাময়িক বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ২০১৫ সালেও বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র দু’জনের, যা বর্তমান সময়ে সাতজনে উন্নীত হয়েছে। এমনকি শীর্ষ ছয় ধনকুবেরের সবাই এখন প্রযুক্তি খাতের সাথে সম্পৃক্ত। দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংকের মতো উদ্ভাবনী প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে মাস্ক নিজেকে কেবল একজন শিল্পপতি নন, বরং আগামী দিনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের প্রধান কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।