ভারত-চিন সম্পর্কে নয়া মোড় শীঘ্রই নয়াদিল্লি আসছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই

প্রায় ছয় বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাসের মেঘ কাটিয়ে ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শীঘ্রই ভারত সফরে আসছেন। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দুই দেশের স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। সীমান্তে নজিরবিহীন সেনা মোতায়েন, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের অভাব সম্পর্কের অবনতিকে ত্বরান্বিত করেছিল। তবে গত দুই বছরে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক আলোচনার ফলে সীমান্ত পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, যা সম্পর্কের এই নতুন মোড়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ওয়াং ইর এই সফরে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
গত কয়েক মাসে দুই দেশের পক্ষ থেকেই সম্পর্কের তিক্ততা কমিয়ে সংলাপে ফেরার ইতিবাচক সদিচ্ছা দেখা গেছে। বিশেষ করে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা, ভিসা জটিলতা নিরসন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ সুগম করার বিষয়ে উভয় দেশই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্পর্কের পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণের পথে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের কৌশলগত সখ্যতা, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যার মতো বড় বাধাগুলো এখনো বিদ্যমান।
দীর্ঘদিন পর উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি আলোচনাকে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। এই বৈঠক ফলপ্রসূ হলে ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে, ভারত ও চীন আপাতত সংঘাতের চেয়ে সংলাপের পথেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আর ওয়াং ইর এই সফর সেই নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস