পাঞ্জাবে অতিবৃষ্টির সতর্কতা জারি, জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় মারিয়ম নওয়াজের কড়া নির্দেশ

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে তৃতীয় দফার মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে জনজীবনে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। সম্ভাব্য নগরাঞ্চলীয় বন্যা পরিস্থিতি রোধ এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া সতর্কবার্তার আলোকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন এজেন্সি বা ওয়াসা-কে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও জেলা পর্যায়ের জরুরি অপারেশন কেন্দ্রগুলোকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী বাহিনী রেসকিউ ১১২২ এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে পানি অপসারণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং জরাজীর্ণ ভবনগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
লাহোর, গুজরানওয়ালা, বাহাওয়ালপুর এবং রহিম ইয়ার খান এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের সব ম্যানহোল ঢেকে রাখা এবং নির্মাণাধীন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। তিনি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন বৃষ্টির সময়ে শিশুদের নদী বা খালের কাছাকাছি না যেতে দেওয়া হয় এবং দুর্বল অবকাঠামোর বাড়িতে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাবের অধিকাংশ জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সারগোদায় ১০৫ মিলিমিটার, হাফিজাবাদে ৭৭ মিলিমিটার, ওকারায় ৭৩ মিলিমিটার, বাহাওয়ালনগরে ৬৩ মিলিমিটার এবং সাহিওয়ালে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া প্রাদেশিক রাজধানী লাহোরে গত পাঁচ দিনে মোট ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জনদুর্ভোগকে চরমে নিয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ