সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় নতুন অর্থবছরের প্রত্যাশা শেয়ারবাজারে

নতুন অর্থবছরের প্রাক্কালে দেশের শেয়ারবাজার এক ইতিবাচক ধারায় প্রবেশ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গত ৩০ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অর্থবছর শেষ করেছে, যা বিগত ২১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সূচক পয়েন্ট গত ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাজারের স্থিতিশীলতার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। অর্থবছর সমাপনী দিনে ডিএসইতে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির পর এটিই ছিল বাজারে লেনদেনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বিগত অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসের তুলনায় সূচকের ৮৯৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি এবং লেনদেনের পরিমাণ সোয়া তিন গুণ বেড়ে যাওয়া বাজারের প্রাণচাঞ্চল্যেরই ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের ফলে বাজারে এই ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার কৌশল এবং নতুন বাজেটে ঘোষিত প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং কাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।
ঢাকা স্টক ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার শেয়ারবাজার উন্নয়নে যে আন্তরিকতা প্রদর্শন করছে, তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এই আশাবাদের বিপরীতে ভালো মানের শেয়ারের স্বল্পতা এবং দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির আধিক্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের টেকসই অগ্রগতির জন্য মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির সরবরাহ বাড়ানো অপরিহার্য।
বাজারের কারসাজি রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিএসইসি বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকাচ্যুতি এবং সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে। একইসঙ্গে অনিয়ম ঠেকাতে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।