AdvertisementAdvertisement

ওয়েস্ট ব্যাংকের ভূমি নিবন্ধনে ইসরায়েলি ডিজিটাল কৌশলে ঔপনিবেশিক দখলের শঙ্কা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের ভূ-সম্পত্তির মালিকানা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধনের জন্য ইসরায়েলের বিতর্কিত পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক ও আইনি অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে ফিলিস্তিনি ভূমি কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপকে ঔপনিবেশিক দখলদারিত্বের একটি বিপজ্জনক ধাপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট এবং কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন (সিআরআরসি) পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলি কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের বুধবার ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ল্যান্ড রেজিস্ট্রি অ্যান্ড সেটলমেন্ট অব রাইটস’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিম তীরের ভূ-সম্পত্তির মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার পরিকল্পনা করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি প্রথাগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কৌশলের বাইরে গিয়ে ডিজিটাল ও প্রশাসনিক প্রকৌশলের মাধ্যমে দখলকৃত ভূখণ্ডে স্থায়ী আইনি বাস্তবতাকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই অবৈধ কর্মকাণ্ড রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। সিআরআরসি প্রধান মোয়াইয়াদ শাবান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনিদের জমি ও সম্পদের ওপর নিরন্তর লঙ্ঘনেরই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে মে ২০২৫ সালে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে নতুন ও আগ্রাসী ভূমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু করে, যার লক্ষ্য হলো প্রশাসনিকভাবে দখলকৃত ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অধীনে নথিবদ্ধ করা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে জুলাই ২০২৫ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট পশ্চিম তীর সংযুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-র প্রায় ৫৮ শতাংশ ভূমি স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি এমন এক চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ যা পরবর্তীতে ইসরায়েলি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।

ইসরায়েলি ল্যান্ড রেজিস্ট্রি ইউনিট এখন এরিয়া সি-র ভূমি মালিকানা নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয় অনুমতি প্রদান এবং ফি সংগ্রহের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। ইসরায়েলের লক্ষ্য ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরের অন্তত ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড পূর্ণাঙ্গ বন্দোবস্তের আওতায় আনা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারের আমলে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%