বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বে আগ্রহী চীন রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তার প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব ও শক্তিশালী বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
সফরের সাফল্য তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং সেগুলোকে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার বিষয়ে চীন বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে ১৬ দফার একটি বিশেষ যৌথ ইশতেহার প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষক সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে।
চিকিৎসা খাতের উন্নয়নেও দুই দেশ নতুন করে সহযোগিতার পথ খুঁজছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোবোটিক সার্জারি ও নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ আয়োজনের ব্যাপারে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে উভয় পক্ষ।
বৈঠকে ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং। পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদারে মিডিয়া, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
