গেজেট সত্ত্বেও দীর্ঘ এক দশকে বাস্তবায়ন হয়নি ৬৭২ আনসার সদস্যের স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন সুবিধা

দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে আছে ৬৭২ জন মহিলা আনসার সদস্যের চাকরি স্থায়ীকরণ ও নিয়মিতকরণের বিষয়টি। সরকারি গেজেট এবং মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য এক কালো হাতের কারসাজিতে দিনের পর দিন বঞ্চিত রাখা হচ্ছে এই নারী সদস্যদের। চাকরির শেষ বয়সে এসে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত তারেক রহমানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, স্বচ্ছলতার আশায় ১৯৮৩ সালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আনসার ও ভিডিপি) যোগ দিয়েছিলেন এই নারীরা। তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৩ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র প্রদান করে এবং ২০১৭ সালের ২৫ মে সরকার এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করে। ওই গেজেটের বিধি অনুযায়ী, বেতন, ছুটি ও পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের যোগদানের তারিখ থেকে চাকরিকাল গণনা করার কথা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর আনসার ও ভিডিপি একটি অফিস আদেশ জারি করে তাদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
তবে গেজেট প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এবং একাধিকবার প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বাহিনীটির একটি প্রভাবশালী মহল। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত একটি চিঠিতে গেজেট পরিপন্থী শর্ত জুড়ে দিয়ে বেতন সুবিধা স্থগিত করার চেষ্টা করা হয়। অথচ হাইকোর্টের রায়ে এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বেতনসহ সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে আনসার ও ভিডিপির রেকর্ড শাখার পরিচালক নুরুল আমিনের ভূমিকা সবচেয়ে রহস্যজনক। আর্থিক ফায়দা লোটার অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি নথিপত্র ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন এবং বাহিনীর মহাপরিচালককেও ভুল পথে পরিচালিত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ব্যাচের কিছু সদস্যের বেতন নির্ধারণ করা হলেও সিংহভাগ সদস্যকে বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে, যা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বৈষম্যকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব বিভাগ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে পৃষ্ঠাঙ্কন করলেও রহস্যজনক কারণে তা জেলা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে বছরের পর বছর এই নারীদের সাথে যে নিষ্ঠুর প্রহসন করা হচ্ছে, তা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীরা এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই হয়রানি বন্ধ এবং প্রাপ্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।