লাহোরে বিদেশি পর্যটক অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় পঞ্চম সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের লাহোরের ডিফেন্স এলাকায় দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির চাঞ্চল্যকর মামলায় পঞ্চম সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এক নাগরিকের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী দুই নারী ও গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনা এবং মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনের ফলাফলের ভিত্তিতেই মামলার আইনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত রেজা দার পাকিস্তানর উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের নাতি বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এবং ভুক্তভোগী দুই নারীর মধ্যে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী এক নারীর ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে প্রায় ১৯ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নেদারল্যান্ডসের নাগরিক স্টেফানি আদ্রিয়ানা গত বছরের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রেজা দারের সাথে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে রেজা দারের আমন্ত্রণে ভিসা নিয়ে গত ২৯ জুন ওই দুই নারী পাকিস্তানে পৌঁছান। দেশটিতে পৌঁছানোর পরই তাদের অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। নেদারল্যান্ডসে অবস্থানরত এক ভুক্তভোগীর বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাহোরের ডিফেন্স এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক এস্ট্রিড রবিনসন। নিজের বয়ানে তিনি দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকির পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। পাকিস্তানর পুলিশ জানিয়েছে, সব ধরনের আইনি কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে এবং সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%