লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৬০ দিনে ৯ হত্যাকাণ্ড জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত ৬০ দিনে ধারাবাহিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক কলহ, মাদক প্রতিরোধে বাধা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং অপহরণসহ বিভিন্ন ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একের পর এক প্রাণহানির এসব ঘটনায় পুরো উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে।
মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত টাইলস মিস্ত্রি সাগর দীর্ঘ ১৮ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রাণ হারান। সাগরের এই মৃত্যু সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে চরপাতা ইউনিয়নের পূর্ব চরপাতা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. হানিফ নামক এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন।
নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতিতে শিশু সানি আল ফারাবির রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কেরোয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকা থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া দক্ষিণ গাইয়ারচর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রাজিবকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পরদিন একটি বাগান থেকে তার আঘাতপ্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর লোক দেখানো অভিযানের চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যকর টহল জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই।
এসব ঘটনায় স্থানীয়রা ও নিহতের স্বজনরা শোকাহত হয়ে জড়িত অপরাধীদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও জননিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের শঙ্কা কাটছে না।