ইরাক থেকে প্রতিদিন ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানির পথে তুরস্ক

ইরাকের কিরকুক তেলক্ষেত্রে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম বা বিপি পরিচালিত প্রকল্পের একাংশ তুরস্কের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি কিনে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাগদাদ থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির পথে হাঁটছে আঙ্কারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ইরাকের কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির এই নতুন উদ্যোগ তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদাও মেটাবে। এর আগে গত ২৭ জুলাই ইরাক-তুরস্ক অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুই দেশ নতুন একটি জ্বালানি সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ইরাকি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে তুরস্ক সফরে আসা দেশটির প্রতিনিধি দলের সাথে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পরিবহন ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আল জাজিরার বরাতে ডেইল সাবাহর সম্পাদকীয় সমন্বয়ক মেহমেত চেলিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি ও বাণিজ্য রুটের বিকল্প হিসেবে তুরস্কের এই প্রস্তাব বাগদাদের কাছে এখন অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জ্বালানি চুক্তিটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইনের মাধ্যমে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুটি এখনো বেশ জটিল। উত্তর ইরাকের এরবিল, দোহুক ও নিনেভ অঞ্চলে তুরস্কের প্রায় ৫০টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার তুর্কি সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে সামরিক তথ্যে জানা গেছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-এর উপস্থিতিকে আঙ্কারা নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করায় অঞ্চলটিতে তুর্কি বাহিনীর এই উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পিকেকে দীর্ঘ ৪০ বছরের সশস্ত্র লড়াই অবসানের লক্ষ্যে নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা দিলেও আঙ্কারা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক ও অস্থিতিশীলতামুক্ত অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে ইরাকের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে আঙ্কারা। জ্বালানি ও পরিবহন খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান জটিল সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা