না ফেরার দেশে কিংবদন্তি দেব আনন্দের পুত্র সুনীল আনন্দ

বলিউডের সোনালী যুগের অন্যতম নক্ষত্র দেব আনন্দের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতার পুত্র সুনীল আনন্দ ৭০ বছর বয়সে লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। বাবার পথ অনুসরণ করেই রূপালী জগতে পা রেখেছিলেন সুনীল, তবে তাঁর প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে এক বিষাদময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
সুনীল আনন্দের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেব আনন্দের নাতনি ও সুনীল আনন্দের ভাইজি জিনা নারাং। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে গোপনীয়তা রক্ষা এবং সকলের কাছে সংবেদনশীলতা বজায় রাখার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
পড়াশোনা শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ১৯৮৪ সালে ‘আনন্দ অউর আনন্দ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল সুনীলের। এরপর বেশ কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করলেও বাবার মতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তাঁর অধরাই থেকে যায়। ২০১১ সালে দেব আনন্দের মহাপ্রয়াণের পর পরিবারের ঐতিহ্যবাহী প্রযোজনা সংস্থা ‘নবকেতন ফিল্মস’-এর হাল ধরেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সুনীল স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস করছিলেন।
এক অদ্ভুত সমাপতন হলো, যে হাসপাতালে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটিয়েছিলেন দেব আনন্দ, ঠিক ১৫ বছর পর সেই একই হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তাঁর পুত্র। সত্তর দশকের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুপারস্টার দেব আনন্দ তাঁর অনন্য অভিনয়শৈলী ও স্টাইলের জন্য আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। ‘গাইড’, ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’, ‘কালা পানি’ কিংবা ‘প্রেম পূজারী’র মতো কালজয়ী সব চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, তা আজও অদ্বিতীয়। তাঁর সুযোগ্য পুত্রের চিরবিদায়ে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো।