বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির ফিফার পদক্ষেপে উয়েফার তীব্র আপত্তি

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফিফার এমন চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা।
ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের। জশুয়া কুশনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
উয়েফা তাদের কঠোর অবস্থানে অটল থেকে জানিয়েছে, ফুটবল কোনো পণ্য নয় এবং এর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এমন সীমালঙ্ঘন করা উচিত নয়। তাদের ভাষ্যমতে, ফুটবলের আত্মা বা এর শাসনব্যবস্থা কোনো বাণিজ্যযোগ্য সম্পদ হতে পারে না। বিশেষ করে যেখানে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে এমন পদক্ষেপ ফুটবলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সমালোচকদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফুটবল কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয় যে তা বিক্রি করে দিতে হবে। তার মতে, একবার এই স্বত্ব বিক্রি করা হলে ফুটবলের মূল চেতনা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং এটি হবে ফুটবলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই উদ্যোগকে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, ফুটবলের বাণিজ্যিক মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে যে মুনাফা আসবে, তা বিশ্বজুড়ে খেলাটির প্রসারে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ফিফার দাবি, অংশীদারিত্ব বিক্রি করলেও মাঠের সিদ্ধান্ত, ম্যাচের সময়সূচি এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার পুরোটা তাদের হাতেই থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ক্রীড়া সংস্থাটি সাধারণত সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পন্সরশিপ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে। ফিফার এই সাহসী কিন্তু বিতর্কিত পদক্ষেপে এখন বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রধান মেরু—ফিফা এবং উয়েফার মধ্যে দূরত্ব আরও প্রকট হলো। ফুটবল বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা এখন তাকিয়ে আছেন সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটির দিকে, যা নির্ধারণ করবে খেলাটির ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক রূপরেখা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা