গণঅভ্যুত্থানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস তথ্য উপদেষ্টার

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে আন্দোলনকারীদের ওপর ৭.৬২ মিলিমিটারের প্রাণঘাতী গুলি ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই টাইপ-৫৬ বা চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে আসছে, যা মূলত একটি সামরিক মানের অস্ত্র।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এই অস্ত্রের কার্যকর মারণসীমা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও তা কয়েকশ মিটার দূরের মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। পুলিশের হাতে এমন অস্ত্র মোতায়েনকে তিনি নীতিগতভাবে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কেবল অজ্ঞাত স্নাইপাররা নয়, বরং সরকারি বাহিনীর ব্যবহার করা অস্ত্র থেকেও গুলি ছোড়ার চিত্রপ্রমাণ রয়েছে। তবে কার গুলিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার মৃত্যু হয়েছে, তা উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি আবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর দায়িত্ব পালনকালীন বা পূর্ববর্তী যে কোনো অনিয়ম ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ অবারিত থাকে। আদালতের কার্যক্রমে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমদানিনির্ভর এলএনজি ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ভোলা থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধানযোগ্য নয়, তাই নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে সাময়িক বিধিনিষেধ বজায় থাকবে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক মাইক্রোপ্লাস্টিক সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, টুথপেস্টসহ বিভিন্ন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। এটি কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়, বরং খাদ্য ও পরিবেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক জটিল সংকট। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা সরকারি কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ করা কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে অবসরে পাঠানোর পূর্ণ ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। পরিশেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হবে।
