AdvertisementAdvertisement

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হরমুজে তিনটি জাহাজ আটক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, গত বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর ওপর অতর্কিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে এবং বর্তমানে পুরো অঞ্চলে মার্কিন সেনারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জর্ডান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের আকাশে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-র মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ও সেন্ট্রাল কমান্ডের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং আমেরিকার পক্ষ থেকে ‘অবৈধ ও বিদ্বেষপূর্ণ’ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এই প্রতিরোধ কার্যক্রম চলমান থাকবে। তেহরান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, এই আক্রমণকে নিছক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই উত্তেজনার আঁচ পড়েছে বিশ্ববাজারেও। মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরপরই অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম পৌঁছেছে ৮৮ ডলারের ওপরে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান বৈরিতা নতুন মোড় নিতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালীতেও ইরানের আধিপত্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আইআরজিসি প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারকে থামিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ওপর আঘাত হেনেছে। ওমান এই জলপথ ব্যবস্থাপনায় একটি যৌথ প্রস্তাব দিলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রানজিট রুট সমানভাবে ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই।

ওয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এমন আক্রমণকে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, ইসরায়েল বরাবরই পিক্যাক্স মাউন্টেনে ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনা তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনীতি এখন এক অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%