আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে অনুমোদন এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের আশা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় দীর্ঘ এক যুগ ঝুলে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বাস্তবায়নের পর এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বস্ত্র, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ, আবাসন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্যমতে, আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলটি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানানো হয়েছে, মোট ব্যয়ের ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা দেশজ উৎস থেকে এবং ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে সংগৃহীত হবে। ২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নানা জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পের গতি সঞ্চারিত হয় এবং বর্তমানে চুক্তি সম্পাদনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, ৩৩০ মিটার সেতু ও ১,১৮১ মিটার ফোর-লেন রাস্তা। এছাড়া ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন হ্যান্ডলিং ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই শিল্পাঞ্চলটি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

0%
0%
0%
0%