AdvertisementAdvertisement

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্য করে হামলার ছক পণ্ড, আইএসআই সংশ্লিষ্ট নয় জঙ্গি গ্রেফতার

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা বা আইএসআই-এর মদদপুষ্ট দুটি জঙ্গি মডিউল ধ্বংসের রেশ কাটতে না কাটতেই পঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একটি জঙ্গি চক্র রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে লক্ষ্য করে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা আন্দোলনস্থলে পৌঁছেও গিয়েছিল। তবে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির কারণে বড় ধরনের অঘটন ঘটার আগেই পুলিশ তাদের পাকড়াও করতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার পঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি বিশেষ অভিযানে চার কিশোরসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে, সীমান্তের ওপার থেকে আইএসআই-সমর্থিত হ্যান্ডলারদের সরাসরি নির্দেশনায় তারা কাজ করছিল। ভারতের অভ্যন্তরে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করাই ছিল এই চক্রের মূল লক্ষ্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লর জানান, জঙ্গি মডিউলটির সদস্যদের কাছে পেট্রল বোমা তৈরির উপকরণ ছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে যখন শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন চলছিল, ঠিক সেই সময়েই তারা সেখানে সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে অভিযান না চালানো হলে সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

তদন্তে আরও উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে যে, এই জঙ্গি চক্রটি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন শিবির এবং সেনাসদস্যদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল সেনা ও পুলিশি স্থাপনা, তাদের যাতায়াতের রুট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গোপন ভিডিও ধারণ করে সীমান্তের ওপারে পাঠানো। পাশাপাশি সুযোগ বুঝে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল তাদের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্যমতে, সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, দেশবিরোধী এই কর্মকাণ্ডে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছিল। হাওলা এবং অন্যান্য অবৈধ পথে বিদেশ থেকে এই জঙ্গি সদস্যদের কাছে নিয়মিত অর্থায়ন করা হতো। নিট পরীক্ষার অনিয়মের দাবিতে যন্তর মন্তরে চলা ৩৬ দিনের দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের সময় এই মডিউলের তৎপরতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে এক বড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%