প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে

লোকসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়ে নতুন বার্তা দিলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান। বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা জল্পনা। বিশেষ করে এনডিএ-র ডাকা আগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে তাঁদের অনুপস্থিতি বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত করেছিল।
গত কয়েক সপ্তাহে এই তিন সাংসদ প্রকাশ্যে বিজেপির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করলেও, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের আলাদা বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি এনডিএ-র প্রতি তাঁদের সায় থাকার একটি ইঙ্গিতবাহী বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৈঠকের মাধ্যমে তাঁরা কার্যত নিজেদের এনডিএ-র অংশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, বৈঠকে যোগ দিয়ে তিন সাংসদ তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি দলগত বিভিন্ন উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে এনসিপিআই এখনও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় তাঁরা যে আইনি জটিলতায় পড়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন তাঁরা। দলের স্বীকৃতির অভাব তাঁদের কাজের পরিধিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ধৈর্য ধরে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এনসিপিআইয়ের স্বীকৃতির চেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় পরিচয় সংক্রান্ত আইনি বিবাদের নিষ্পত্তি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা অনেকটাই কেটে যাবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সব সাংসদকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের কাজে আরও গতিশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের সার্বিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি যে স্থানীয় স্তরের উন্নয়ন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি প্রত্যেক সাংসদকে মানুষের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিন সাংসদের এই অংশগ্রহণ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
