AdvertisementAdvertisement

বিদেশে বসেও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম আন্ডারওয়ার্ল্ড, ইন্টারপোলের অপেক্ষায় সাজ্জাদ গ্রুপ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ আলী খান দীর্ঘ তিন দশক ধরে নগরীর অপরাধ জগতের এক আতঙ্কের নাম। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক নাছির বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে নাছির বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার পর সাজ্জাদ নিজ নামে একটি শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের অন্তত পাঁচটি থানা এলাকায় নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য রয়েছে।

সাজ্জাদের অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনার ধরন অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাজ্জাদ মূলত ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়া তরুণদের চিহ্নিত করেন এবং জামিনে মুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিজের বলয়ে নিয়ে আসেন। এই তরুণদের প্রথমে নজরদারি, মোটরসাইকেল চালানো ও অস্ত্র বহনের কাজ দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পেশাদার ‘হিটম্যান’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়, যারা পরবর্তীতে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে টার্গেট কিলিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পুলিশের নথিপত্রে এই চক্রের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এক সময় নুরনবী ম্যাক্সন, সরওয়ার হোসেন ও গিট্টু মানিক এই বাহিনীর অগ্রভাগে থাকলেও বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন, রায়হান আলম, বোরহান উদ্দিন ও বুইস্যার মতো অপরাধীরা সক্রিয়। এদের মধ্যে কেউ কারাগারে, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার কেউ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছেন। সাজ্জাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁদাবাজির অডিও ক্লিপগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করলেও পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান শওকত আলী জানিয়েছেন, সাজ্জাদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আশরাফ হোসেন চৌধুরী মনে করেন, শুধুমাত্র ইন্টারপোল নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী মামলা পরিচালনার পাশাপাশি তদন্তের মান উন্নত করা প্রয়োজন। বিচার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা দ্রুত জামিন পেয়ে পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অপরাধ কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনমনে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণরা যেভাবে এই চক্রের মাধ্যমে অপরাধ জগতে ধাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে অভিভাবক মহলেও অস্বস্তি বাড়ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধচক্রের মূলোৎপাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

0%
0%
0%
0%