AdvertisementAdvertisement

থাইল্যান্ডের স্কুলে নাবালকের গুলিবর্ষণ, শিক্ষকসহ নিহত ৪

থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের বাংকরুয়াই জেলায় অবস্থিত স্বনামধন্য দেবসিরিন স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় এক শিক্ষকসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে স্কুল চলাকালীন নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সহপাঠী ও শিক্ষকদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যমতে, সকাল ১০টার দিকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্কুল প্রাঙ্গণ ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। হামলার পর হামলাকারী ওই শিক্ষার্থী স্কুলের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আত্মগোপন করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হামলাকারী ওই কিশোরের পরিণতি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তাণ্ডব চালানোর পর সে নিজেই আত্মঘাতী হয়েছে, আবার কিছু তথ্যে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং ওই কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে থাই সরকার। ব্যাংককের গভর্মেন্ট হাউসে এক প্রতিক্রিয়ায় দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই ঘটনাকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এর পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা দীর্ঘকাল ধরেই জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে প্রতি সাতজন নাগরিকের বিপরীতে গড়ে একটি অস্ত্র রয়েছে। বারবার কঠোর অস্ত্র আইনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটছে। ২০২২ সালে একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার হামলায় ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার ক্ষত এখনো দেশটির মানুষের মনে দগদগে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%