AdvertisementAdvertisement

চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে স্ক্যান্ডিয়াম উত্তোলনে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু স্ক্যানডিয়ামের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে অস্ট্রেলীয় একটি খনি প্রকল্পে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও খনি শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পেন্টাগন জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফাইফিল্ডে অবস্থিত এই প্রকল্পটি বিশ্বের প্রথম প্রধান স্ক্যানডিয়াম খনি হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা পশ্চিমা বিশ্বের জ্বালানি ও প্রযুক্তি সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

অস্ট্রেলীয় খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, ‘সায়ারস্টন স্ক্যানডিয়াম প্রজেক্ট’ নামক এই খনিটি বৈশ্বিক সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে। বিমান শিল্প, মহাকাশ গবেষণা এবং ৫জি ও ৬জি টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক খাতে এই ধাতুর চাহিদা অপরিসীম। মূলত অ্যালুমিনিয়ামকে অধিক মজবুত, তাপসহিষ্ণু এবং ক্ষয়প্রতিরোধী করতে স্ক্যানডিয়াম ব্যবহৃত হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বিশ্ববাজারে স্ক্যানডিয়ামের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়ায় চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। গত বছর বেইজিং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহৃত এই ধাতুর রপ্তানি সীমিত করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন উৎসের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ একটি কৌশলগত খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার আওতায় উভয় দেশই যৌথ প্রকল্পগুলোতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বাণিজ্যিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সানরাইজ এনার্জি মেটালস ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সাথে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, খনিটি থেকে উৎপাদিত স্ক্যানডিয়ামের ২৫ শতাংশ আগামী পাঁচ বছর সরাসরি লকহিড মার্টিনকে সরবরাহ করা হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিজেদের খনিজ সম্পদ ও ব্যাটারি প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন ফেডারেল সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে মোট ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমিয়ে নিজস্ব শিল্পনীতি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%