AdvertisementAdvertisement

জোড়া জমি দখলের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি

জোড়া জমি দখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে জেরবার মালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। রতুয়া থানার পুলিশের দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় তলব পেয়ে শুক্রবার সকালে থানায় হাজিরা দেন তিনি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তদন্তকারীরা বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং জমি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রুকুন্দিপুরের বাসিন্দা শকুন্তলা ঘোষের পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি। শকুন্তলা দেবীর দাবি, বিডিও অফিসের সামনে অবস্থিত তাঁদের জমির একাংশ ২০১৫ সাল থেকে বিধায়কের দখলে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় সম্প্রতি ফের পুলিশের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী পরিবার। এই ঘটনার ভিত্তিতেই তদন্তে নেমেছে রতুয়া থানা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জমির বিরোধের পাশাপাশি সরকারি জমি জবরদখল করে স্কুল নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে বিধায়কের বিরুদ্ধে। আরএসপির মালদহ জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পাণ্ডের অভিযোগ, সেচ দফতরের জমিতে গড়ে তোলা ওই স্কুলটির লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বেআইনিভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রাক্তন সেচমন্ত্রী গনিখান চৌধুরীর আমলে নির্মিত বাংলোর জায়গায় এনজিওর আড়ালে বিধায়ক নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

শুক্রবার সকাল ১১টা ৫৭ মিনিট নাগাদ রতুয়া থানায় পৌঁছন আব্দুর রহিম বক্সি। টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি থানা চত্বর ত্যাগ করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পুলিশের সমস্ত জিজ্ঞাসার উত্তর তিনি দিয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মালতীপুরের এই বিধায়ক।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের কারবার চালিয়েছেন। তবে বিধায়ক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করায় এখন পুলিশের তদন্ত এবং নথিপত্র যাচাইয়ের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%