AdvertisementAdvertisement

কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি পরিস্থিতির অবনতি, বকেয়া বেতনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইতুড়ি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীন হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীরা, যা মহামারি মোকাবিলায় চলমান প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে কোনো বেতন বা বোনাস না পাওয়ায় স্থানীয় গভর্নর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ইতুড়ি প্রদেশটি কঙ্গোর ইবোলা সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এবং দেশটিতে আক্রান্তের প্রায় ৯০ শতাংশই এই অঞ্চলের বাসিন্দা। আন্দোলনরত স্বাস্থ্যকর্মী এদউইজ মাকোসি জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের এমন অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে এই প্রদেশে ইবোলা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর সমাধানের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বরাবরই লজিস্টিক জটিলতাকে বেতনের বিলম্বের কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছেন, তবে সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্যমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৩ এবং এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮০১ জন। এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব, যার ফলে বর্তমানে ৬৭৪ জন রোগী আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংক্রমণের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই চিহ্নিত ব্যক্তিদের বাইরে থেকে আসছে, বিশেষ করে বিদ্রোহী ও খনিপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ জানিয়েছে, সংক্রমণ ঠেকাতে গৃহীত বর্তমান পদক্ষেপগুলো লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। সংস্থাটির উপ-চিকিৎসা পরিচালক ফিলিপ্পা বুল সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিটি দিন নষ্ট হওয়া মানে ভাইরাসটিকে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং অকারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস গত বুধবার কঙ্গো সফরকালে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সংঘাতপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীদের আক্রমণের ঝুঁকি এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ বর্তমানে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%