AdvertisementAdvertisement

তিন দশক পর মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালড়ার লড়াই ও স্মৃতির পুনর্জাগরণ

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের মানবাধিকারকর্মী যশবন্ত সিং খালরাকে গুম ও হত্যার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া সংগ্রামের রেশ আজও অমলিন। ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অমৃতসরে নিজ বাসভবনের সামনে থেকে পুলিশ কর্তৃক অপহৃত হওয়ার পর থেকে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায়নি তাঁকে। পাঞ্জাবের তৎকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় অকুতোভয় এই অধিকারকর্মীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর জীবন ও লড়াই নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাতলুজ’ আবারও সামনে এনেছে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের স্মৃতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার প্রশ্নটি।

১৯৮০-র দশকে পাঞ্জাবে খালিস্তান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিখ সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চরম আকার ধারণ করে। ১৯৮৪ সালে স্বর্ণমন্দিরে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ পরিচালনার পর উদ্ভূত উত্তাল পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। যশবন্ত সিং খালরা একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সময় নিজের পরিচিতদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অনুসন্ধানে নেমে ভয়ংকর এক সত্য উদ্ঘাটন করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, পুলিশ পাঞ্জাবে ২৫ হাজার মরদেহ ‘শনাক্তহীন’ বা ‘দাবিহীন’ হিসেবে পুড়িয়ে ফেলেছে। এই অনুসন্ধানের কারণেই তিনি রাষ্ট্রের রোষানলে পড়েন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে যশবন্ত সিং খালরার কন্যা নভকিরন কৌর খালরা জানান, সেই অভিশপ্ত দিনের কথা আজও তাঁর হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পরিবারটি এই আশায় ছিল যে তিনি হয়তো বেঁচে আছেন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে কুলদীপ সিং নামের একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্য পাওয়ার পর তাঁদের সেই আশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, নভকিরন মনে করেন প্রকৃত ন্যায়বিচার এখনো অধরা। তাঁর মতে, রাষ্ট্রযন্ত্রের এই দমন-পীড়ন কেবল তাঁর বাবাকেই কেড়ে নেয়নি, বরং হাজারো পরিবারকে ঠেলে দিয়েছে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার অতল গহ্বরে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যশবন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাতলুজ’ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তার অজুহাতে নিষিদ্ধ করে। তবে এই পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হয়েছে। পাঞ্জাবজুড়ে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ কমিউনিটি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ছবিটি প্রদর্শনের আয়োজন করে, যা সরকারের দমন নীতির বিরুদ্ধে এক নতুন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নভকিরন কৌর খালরা বলেন, রাষ্ট্র হয়তো তাঁর বাবার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাঁর লড়াই আজ হাজারো মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত হয়েছে। তিন দশক পরেও পাঞ্জাবের মাটিতে দাঁড়িয়ে মানুষ আজও সেই নিখোঁজ স্বজনদের সত্য এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় দিন গুনছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%