AdvertisementAdvertisement

প্রাকৃতিক উপায়ে কৃমি দূর করার কার্যকরী ৫ উপায়

কৃমি কেবল শিশুদের নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। দূষিত পানি পান, অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার গ্রহণ, অপর্যাপ্ত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং আধা-সিদ্ধ শাকসবজি বা মাংস খাওয়ার ফলে শরীরে এই পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে। পেটে কৃমির প্রাদুর্ভাব ঘটলে তীব্র পেটব্যথা, বদহজম, গুহ্যদ্বারে চুলকানি, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি অনুভূত হওয়ার মতো শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিওয়ার্মিং ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানে কৃমি নির্মূলের বিষয়টি বেশ সমাদৃত। আমাদের রান্নাঘরে থাকা বেশ কিছু সাধারণ উপাদান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে এই পরজীবী দমনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান অন্ত্রের কৃমি ও এর ডিম ধ্বংস করতে সক্ষম। একইভাবে, কাঁচা পেঁপেতে বিদ্যমান ‘পাপাইন’ নামক এনজাইম কৃমি ধ্বংসকারী বা অ্যান্থেলমিন্টিক গুণাগুণ সমৃদ্ধ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কুমড়োর বীজে থাকা ‘কুকুরবিটাসিন’ নামক যৌগ কৃমিকে অবশ করে দেয়, যার ফলে কৃমি অন্ত্রের দেয়াল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া, নিম গাছকে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ পরজীবীনাশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে কৃমির সংক্রমণকে মূল থেকে উপড়ে ফেলে। অন্যদিকে, কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-সেপ্টিক ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী কৃমির আক্রমণে অন্ত্রের ভেতরের ক্ষত নিরাময়ে এবং পরজীবী ধ্বংসে বিশেষ সহায়তা করে।

পেটে কৃমির সমস্যা অবহেলা করলে শরীরের পুষ্টি শোষণ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টির কারণ হতে পারে। তাই কৃত্রিম রাসায়নিকযুক্ত ওষুধের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে অন্ত্রের এই অস্বস্তিকর রোগ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%