AdvertisementAdvertisement

মঙ্গলবারে হনুমান চালিশা পাঠের মহিমা ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

সনাতন ধর্মে মঙ্গলবার দিনটি পরম পরাক্রমশালী রামভক্ত শ্রী হনুমানজির আরাধনার জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত। বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, এই দিনে নিষ্ঠাভরে হনুমানজির পূজা এবং ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করা আধ্যাত্মিক, মানসিক ও শারীরিক সংকট থেকে মুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। কলিযুগের জাগ্রত দেবতা হিসেবে পরিচিত হনুমানজি ভক্তের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং ভক্তিভরে আহ্বান জানালে তিনি দ্রুত সাড়া দিয়ে সকল বাধা দূর করেন।

মহাকবি গোস্বামী তুলসীদাস বিরচিত ৪০ পদের এই অলৌকিক স্তোত্রটি ভক্তের মন থেকে ভয়, ব্যাধি ও শত্রুভয়ের মতো নেতিবাচক প্রভাব নিমেষে দূর করতে সক্ষম। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তুলসীদাসজি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় গভীর অনুভূতির মাধ্যমে এটি রচনা করেছিলেন, যার ফলে এর প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে দিব্য মন্ত্রশক্তি নিহিত রয়েছে। জ্যোতিষীদের মতে, মঙ্গলবারে রক্তবর্ণ বা লাল রঙের গুরুত্ব অপরিসীম; তাই লাল বস্ত্র পরিধান করে লাল ফুল ও বুন্দিয়া অথবা গুড়-ছোলা ভোগ নিবেদন করে চালিশা পাঠ করলে মানবদেহের সুপ্ত জীবনীশক্তি জাগ্রত হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হনুমান চালিশা পাঠের কিছু সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়মাবলি রয়েছে যা ভক্তদের মেনে চলা আবশ্যক। পাঠের দিন সকালে বা সন্ধ্যায় স্নান সেরে পরিষ্কার লাল অথবা হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করতে হবে। পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে কুশের আসনে বসে শ্রী হনুমানজির মূর্তির সামনে সর্ষের তেল বা বিশুদ্ধ ঘৃতের প্রদীপ ও ধূপকাঠি প্রজ্বলন করা উচিত। এরপর ভক্তি সহকারে ১, ৩, ৭ বা ১১ বার স্পষ্ট উচ্চারণে হনুমান চালিশা পাঠ করতে হবে এবং শেষে আরতি সম্পন্ন করে প্রসাদ বিতরণ করতে হবে।

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মন মুকুর সুধারি। বরনউ রঘুবর বিমল যশ, জো দায়কু ফল চারি। বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবনকুমার। বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি, হরহু কলেশ বিকার। জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর। জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর। রামদূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনি পুত্র পবনসুত নামা। মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী। কনকন বরণ বিরাজ সুবেশা। কানন কুন্ডল কুঞ্চিত কেশা। হাথ বজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজে। কাঁধে মূঞ্জ জেনেঊ সাজে। শংকর সুবন কেসরীনন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন। বিদ্যাবান গুণী অতি চতুর। রাম কাজ করিাবে কো আতুর। প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসয়া। রাম লখন সীতা মন বসিয়া। সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হি দিখাওয়া। বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জলাওয়া। ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংভারে। লায় সজীবন লখন জিয়ায়। শ্রী রঘুবীর হরষি ওর ল্যায়ে। রঘুপতি কীন্হ বহু প্রশংসা। তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাইয়া। সহস বদন তুমহরো যশ গাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কন্ঠ লগাবৈ। সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা। জম কুবের দিগপাল জহা তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহা তে। তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজ পদ দীন্হা। তুমহরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লঙ্কেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা। জুগ সহস্র যোজন পর ভানু। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানু। প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী। দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহরে তেতে। রাম দুআরে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে। সব সুখ লহৈ তুমহারী শরনা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না। আপন তেজ তুমহারো আপৈ। তীনো লোক হাংক তে কাঁপৈ। ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ। নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা। সংকট তে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ। সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা। ঔর মনোরথ জো কোঈ লাবৈ। সোঈ অমিত জীবন ফল পাবৈ। চারো যুগ প্রতাপ তুমহারা। হৈ পরসিদ্ধ জগত উজয়ারা। সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকন্দন রাম দুলারে। অষ্ট সিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্হ জানকী মাতা। রাম রসায়ন তুমহরে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা। তুমহরে ভজন রাম কো পাবৈ। জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ। অন্ত কাল রঘুবর পুর জায়ী। জহা জন্ম হরি ভক্ত কহায়ী। ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ। হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ। সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বলবিরা। জয় জয় জয় হনুমান গোসাঈ। কৃপা করো গুরু দেব কী নাই। জো শত বার পাঠ কর কোঈ। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ। জো যহ পড়ৈ হনুমান চালীসা। হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা। তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা। পবনতনয় সংকট হরন, মঙ্গল মুরতি রূপ। রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয় বহহু সুর ভূপ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভক্তির চরম প্রতীক পবনপুত্র হনুমানজি যেকোনো অহংকারমুক্ত প্রার্থনায় তুষ্ট হন। প্রতি মঙ্গলবার কোনো বিশেষ কামনা ছাড়াই কেবল ভক্তিমনে এই সম্পূর্ণ চালিশা পাঠ করলে জীবনের যাবতীয় সংকট নিরসন হয় এবং সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%