AdvertisementAdvertisement

হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্রীকরণ এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন। গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কখন এবং কীভাবে সরে যাবে, তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকের পর সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার ওপার থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার সম্ভব নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই চুক্তি অনুযায়ী, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ভারী ও হালকা অস্ত্রশস্ত্রসহ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। ‘বোর্ড অব পিস’ তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বন্দুকের শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার শুধুমাত্র নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই কার্যকর হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে এই সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতর থেকেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ দাবি করেছেন যে, বর্তমানে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অবিলম্বে এই বিষয়ে নতুন করে ভোটাভুটির দাবি তুলেছেন। এদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করা পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ম্লাদেনভ গাজায় চলমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও নেতানিয়াহু তাতে কর্ণপাত করেননি। অক্টোবর ২০২৫-এ তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ঘোষণার পরবর্তী সময়েই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জনের বেশি মানুষ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মিশর, কাতার ও তুরস্ক যৌথভাবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই দেশগুলোর মতে, সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে তাগিদ—সব মিলিয়ে গাজার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ম্লাদেনভ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন যে, সবার সদিচ্ছা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত দুরূহ একটি চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%