AdvertisementAdvertisement

কৃষ্ণসাগরে নাবিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি

কৃষ্ণ সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারতের জারি করা নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের চর্নোমোর্স্ক বন্দরে এমভি আমির-১ জাহাজে ১৩ জন ভারতীয় নাবিক আটকা পড়ার প্রেক্ষাপটে কিয়েভ নতুন করে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউক্রেন সরকারের দাবি, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় দিল্লিকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কৃষ্ণ সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের নৌপরিবহণ মহানির্দেশালয়ের জারি করা নির্দেশিকা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তারা গত ১৫ জুলাই হরমুজ প্রণালীর জন্য ভারত সরকারের জারি করা কঠোর সতর্কবার্তার সঙ্গে ২৩ জুলাই কৃষ্ণ সাগরের জন্য দেওয়া নির্দেশিকার তুলনা টেনেছে। ইউক্রেনের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রে যেখানে নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, সেখানে কৃষ্ণ সাগরের ভয়াবহ বাস্তব পরিস্থিতি সত্ত্বেও তেমন কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। এই বৈষম্যমূলক অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনীয় দূতাবাস ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক পর্যায়ে এই অস্বস্তি আরও ঘনীভূত হয়েছে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার একটি অনুরোধকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, কৃষ্ণ সাগরের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নাবিকদের বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সিবিহা। তবে ইউক্রেনের দাবি, এখনো পর্যন্ত সেই অনুরোধের কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। এই নীরবতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সংকট সমাধানে ইউক্রেন প্রশাসন জানিয়েছে, চর্নোমোর্স্ক বন্দরে আটকে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিককে স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে স্থানীয় প্রশাসন। ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরির দাবি জানিয়েছে, যা ইউক্রেনের উদ্বেগের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণ সাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক নৌপথ হিসেবে চিহ্নিত। এমতাবস্থায় ভারতীয় নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ায় দিল্লি ও কিয়েভের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, ইউক্রেনের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার নতুন কোনো কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করে কি না এবং আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কী ধরনের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%