AdvertisementAdvertisement

টুলু মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার অনুব্রত মণ্ডলের মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি

বীরভূমের তথাকথিত ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে প্রচারণার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচার অব্যাহত থাকলে আইনি পথে হেঁটে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

অনুব্রত মণ্ডল স্পষ্ট করে বলেন, বীরভূমে যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রেই নাম জড়িয়ে দেওয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলা সভাপতি থাকাকালীন বহু মানুষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হতো, কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রত্যেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ। টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন এবং জানান যে, কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানেই তিনি সাধারণত অংশগ্রহণ করেন না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে টুলু মণ্ডলের উত্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী জল্পনা ও গুঞ্জন রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দিনমজুর থেকে পাথর পরিবহণের ব্যবসায় এসে টুলু মণ্ডলের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ধীরে ধীরে লরির মালিকানা এবং পাথরের ব্যবসায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহম্মদবাজারের পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণে টুলু মণ্ডলের নাম বারবার উঠে আসে।

২০১৬ সালে সোঁতশাল টোলগেটের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই টুলু মণ্ডলের ব্যবসার পরিধি দ্রুতগতিতে বিস্তৃত হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একের পর এক টোলগেট পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করার পর তাঁর আর্থিক ক্ষমতা ও প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যদিও এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিচারিক ভিত্তি নেই, তবুও তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে নিয়মিত প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে টুলু মণ্ডলের অবস্থান নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অনুব্রত মণ্ডল নতুন করে বার্তা দিলেন যে, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সখ্য নেই। তবে তাঁর এই দাবি সত্ত্বেও বিষয়টি ঘিরে বীরভূমের রাজনীতিতে বিতর্ক থামছে না।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%