হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌচলাচলকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় দেশ দুটির মধ্যে গত তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ফের ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এই বিমান হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিক, কাশম দ্বীপ, জাস্ক এবং বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হরমুজগান প্রদেশের গভর্নর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ভয়াবহতা কমাতে গত মাসে উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো প্রকার মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক নৌচলাচল নির্বিঘ্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি ভেঙে ইরান ড্রোন হামলা ও জাহাজ আটকের পথ বেছে নিলে পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক হামলার প্রধান কারণ হলো এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা, যাতে একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অঞ্চলটির দেশগুলোকে মার্কিন বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার ইরানের রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ফের হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল বন্ধের ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে যে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই এবং সেখানে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংকটে প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে উভয় পক্ষই আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এই জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সামরিক শক্তির মহড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, কারণ বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা