জেরুজালেমে রহস্যজনকভাবে ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু, গ্রেফতার এক

জেরুজালেমের কাটামন এলাকায় এক ভারতীয় শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৪০ বছর বয়সি ওই ভারতীয় নাগরিকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই ৩১ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
দ্য টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝেতে ওই ব্যক্তিকে নিথর ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পুরো ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। মোরিয়া থানার প্রধান ইউভাল রিউভেন জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ফরেনসিক তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।
ইয়নেট নিউজের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইজরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইলাতের বাসিন্দা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইজরায়েল কর্তৃপক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম কিংবা পরিচয় প্রকাশ করেনি। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশাসন নীরবতা বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইজরায়েলে ভারতীয় শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার ভারতীয় নাগরিক ইজরায়েলে কর্মরত রয়েছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তির আওতায় চলতি বছরেই প্রায় ৬,৩৬৫ জন শ্রমিক সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫০ হাজার ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মূলত নির্মাণ ও সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারতীয়দের কর্মদক্ষতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইজরায়েলে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের প্রতিটি মোড় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল। সংশ্লিষ্ট পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
