পার্বত্য অঞ্চলে ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় সেনাবাহিনী বরাদ্দে উপেক্ষিত

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম জনপদে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার, নৌকা ও ট্রাকের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে এই বাহিনীকে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দে তাদের জন্য কোনো নগদ অর্থ রাখা হয়নি। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ খাতে ৫৩ হাজার ৮০০ টন চাল ও ৩০ হাজার টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দকৃত ১২ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বিপরীতে কোনো নগদ অর্থের সংস্থান নেই।

বিজ্ঞাপন

বরাদ্দকৃত নথিতে দেখা যায়, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি ও টাস্কফোর্সের জন্য পৃথকভাবে ৯ কোটি টাকা নগদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অনুকূলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত সেনাবাহিনীর জন্য নগদ অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সরকারি বরাদ্দের অগ্রাধিকার ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিপুল খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই ত্রাণ কার্যক্রমের দৃশ্যমান উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সীমিত খাদ্যশস্যের একটি বড় অংশ দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করে থাকে। তাদের মতে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হলে তা অধিক স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হতো এবং পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের সঙ্গে বাহিনীর আস্থা আরও সুদৃঢ় হতো।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, সরকারি বিধিবিধান মেনেই বরাদ্দের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি দীর্ঘদিনের চলমান পদ্ধতি। তবে ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দের বিদ্যমান কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা একান্ত প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় বাহিনীর আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%