মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে জর্ডনের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের হোভেইজেহ কাউন্টিতে একটি গম সংরক্ষণাগারে মার্কিন হামলার অভিযোগ তুলেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এই হামলায় একটি বৃহৎ শস্য সাইলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ইরানের খাদ্য পরিকাঠামোর ওপর এই আঘাতকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জর্ডন ও কুয়েতের জনগণের উদ্দেশ্যে এক কঠোর বার্তা প্রদান করেছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের ‘নাসর-২’ অভিযানের ষষ্ঠ ধাপের অংশ হিসেবে জর্ডনের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ঘাঁটিতে সফল হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ এমকিউ-৯ ড্রোনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় মার্কিন সামরিক শক্তিকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করা হয়েছে।
আইআরজিসি জর্ডন ও কুয়েতের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তাদের ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। মার্কিন উপস্থিতিকে ‘দখলদারিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তারা দেশ দুটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। কুয়েতের জনগণের উদ্দেশ্যেও আইআরজিসি একই ধরনের বার্তা দিয়ে ইসলামিক ভূখণ্ড মুক্ত করার ডাক দিয়েছে।
তবে আইআরজিসির এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে জর্ডনের সেনাবাহিনী। জর্ডন সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি জর্ডনকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হয়েছিল এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
একাধিক সামরিক পদক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই উত্তেজনার প্রশমন না ঘটলে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস