AdvertisementAdvertisement

রাজ্যসভার তিন উপনির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে চাপে ঘাসফুল শিবির

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আবহে রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমান বিধানসভার সংখ্যার অঙ্ক এবং তৃণমূলের দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতির কারণে বিরোধীরা এই লড়াইয়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের তিন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফার ফলে এই আসনগুলো শূন্য হয়। তফসিল অনুযায়ী, ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে এবং ১৫ জুলাই তা যাচাই করা হবে। ১৭ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। এই আসনগুলোর মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত এবং সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বিধানসভার মোট কার্যকর সদস্য সংখ্যা ২৯২। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসন দুটি শূন্য থাকায় এই সংখ্যাটি অপরিবর্তিত রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রতিটি আসনের জন্য পৃথক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে প্রতিটি জয়ের জন্য ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপির হাতে ২০৮ জন বিধায়ক থাকায় তিনটি আসনেই জয়লাভ তাদের জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বর্তমানে তীব্র বিভাজন স্পষ্ট। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং কালীঘাট তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবিরে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন বিধায়ক। দুই শিবিরের মধ্যে তিক্ততার ফলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে ৮০ জন বিধায়ক নিয়েও তৃণমূলের কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় ১৪৭ ভোট সংগ্রহ করা গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই নির্বাচনে ভোটদানের প্রক্রিয়ায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স ও পৃথক রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে। ভোটারদের পছন্দের ক্রমানুসারে ১, ২ ও ৩ নম্বর লিখে ভোট দিতে হবে এবং বেগুনি কালির স্কেচ পেন ব্যবহার বাধ্যতামূলক। টিক চিহ্ন দিলে ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে। আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ বাকি থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও সংখ্যার বিচারে তিনটি রাজ্যসভা আসনই বিজেপির দখলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার বলেই ধরে নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%