গোরখপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

ভারতর গোরখপুরে এক ১০ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে রাজ্যের পুলিশের এক কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল অভিষেক যাদব ভারতের জরুরি পরিষেবা ১১২ নম্বর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক হিসেবে পরিচিত গোরখপুরে সংঘটিত এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই বড় বোনকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোরখপুর জেলা হাসপাতালে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। রাত ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাপ্তি নদীর চিউতিহান সেতুর কাছ থেকে ওই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রায় ২০০টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার কিনারা করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডিউটিরত অবস্থায় ইউনিফর্ম পরা অভিষেক যাদব ওই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলছেন এবং পরবর্তীতে তাকে নিজের বাইকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। বাইকের নম্বর শনাক্ত করার মাধ্যমেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে পুলিশ। জেরার মুখে অভিষেক স্বীকার করেছেন যে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েই তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার বেলা ২.৩০ মিনিটে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অভিষেককে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশের ঘেরাটোপে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তের ওপর চড়াও হন হাসপাতালের কর্মীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়ে পুলিশ কোনোমতে অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।
গোরখপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ২০১৮ ব্যাচের এই কনস্টেবল অতীতেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের এক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং কারাগারেও ছিলেন। সেই ঘটনার পর সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করা হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর অভিষেককে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
