রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতা

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজি, ডিম ও কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থা তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এবং কারওয়ান বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি দরের উত্তাপ ছড়াচ্ছে বরবটি ও বেগুন। প্রতি কেজি বরবটি ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে। এছাড়া করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও পটোল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শসার দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়। তবে তুলনামূলক কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। শাকের বাজারেও স্বস্তি মেলেনি, যেখানে পুঁইশাক ও ডাঁটা শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় এবং কলমিশাক ১০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৫০ টাকায় ঠেকেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। বর্তমানে এক ডজন ডিমের খুচরা মূল্য ১৪৫ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কাঁচা মরিচের বাজারে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থাটির তথ্যমতে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার আরও প্রকট। এছাড়া পেঁয়াজের দাম বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
আমিষ ও নিত্যপণ্যের বাজারেও উচ্চমূল্যের প্রভাব বিদ্যমান। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারেও নাজিরশাইল ৮৮ টাকা ও মিনিকেট চাল ৭২ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে। একই সাথে মোড়কজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং খোলা ময়দার দাম ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা সার্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
