তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিতে দিল্লিতে ঋতব্রত শিবির, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জোর জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আসল তৃণমূল’ দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস আমরাই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, বহু প্রাক্তন মন্ত্রী, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্য আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

এই বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন বিধায়ক এবং ১ জন প্রাক্তন মন্ত্রী। এর আগে কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে তাঁরা ২২ জুন অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশনের’ নথিও জমা দিয়েছিলেন।

দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে। ঋতব্রত শিবিরের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তাঁদের সমর্থন করছেন। প্রাক্তন মন্ত্রীদের সমর্থন। বহু প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি। এছাড়া স্থানীয় স্তরের সমর্থনও তাঁদেরই সঙ্গে। কাউন্সিলর ও জেলা পরিষদের সদস্যদের সমর্থনের কথাও বলা হয়েছে। এদিকে ঋতব্রতদের অধীনে তৃণমূলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২২ জুনের বিশেষ অধিবেশনে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন এবং আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করার বিষয়টি কমিশনে জানানো হয়েছে।

বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। একদিকে ঋতব্রত শিবির বলছে, দলের নাম বা প্রতীক নিয়ে কোনও বিবাদ নেই এবং তারাই ‘আসল তৃণমূল’। অন্যদিকে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বক্তব্য ও দাবিদাওয়া পেশ করেছে বলেও জানাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যদি কোনও বিরোধ না থাকে, তবে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন কেন পড়ল?

বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই মূল লড়াই—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, ঋতব্রতরা মূলত কালীঘাট শিবিরের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন। বিশেষ করে তাঁদের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের হাতে দলীয় তহবিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবিই কমিশনের কাছে জানানো হয়ে থাকতে পারে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ তাঁদের বক্তব্য শুনেছে এবং বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যদি নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের প্রশ্নে কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%