কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদে নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদে নামাজ পাঠ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দর্শিয়ে আগামী সোমবার পর্যন্ত এই মসজিদে সাধারণের প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার বিশেষ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা সমবেত হবেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিবাদস্বরূপ এলাকার মানুষ বিমানবন্দরের ওই মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি, রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বান, জুম্মার নামাজে এক কোটি মানুষ যেন কালো ব্যাজ ধারণ করে অংশ নেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, এই কর্মসূচি যেন কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা বিক্ষোভের রূপ না নেয়।
এদিকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এই ডাকের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার এই কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে বলেন, দেশে কোনো শরিয়তি আইন চলতে দেওয়া হবে না। তিনি শান্তিপ্রিয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে উস্কানিতে পা না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। একই সুরে রাজ্যের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন।
বিষয়টি নিয়ে এর আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কলকাতা বিমানবন্দর একটি আন্তর্জাতিক এবং স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার খাতিরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্ম পালনের অধিকার সবার থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা অসম্ভব। শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলাই দেশের সকল নাগরিকের দায়িত্ব।
বিমানবন্দরের মসজিদে নামাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য এখন তুঙ্গে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিমানবন্দর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস