বীরভূমে উদ্ধার ২৮.৫ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা, নেপথ্যে পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে এক বিশাল পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২৮.৫ কোটি টাকা, যা রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত গণনার তথ্যানুযায়ী, মহম্মদবাজার এলাকায় উত্তরবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ নিগমের প্রাক্তন বাসচালক মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের এই নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি সোনা জব্দ করেছে পুলিশ। স্থানীয় মহলে গুঞ্জন উঠেছে, ২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ কোটি টাকার রেকর্ড কি তবে ভেঙে ফেলতে চলেছে এই উদ্ধার অভিযান? যদিও টাকা গোনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান, তবুও উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ দেখে অনেকেরই ধারণা, সেই রেকর্ড ভাঙা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

বিজ্ঞাপন

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মহম্মদ নাজিবুদ্দিন, যিনি এলাকায় ‘পাথরবাদশা’ টুলু মণ্ডল হিসেবে পরিচিত। পুলিশের ভাষ্যমতে, মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলেও এই অর্থের আসল মালিক টুলু মণ্ডলই। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, এই অবৈধ সম্পদের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি চালানো হয়েছে। বছর পঁচিশেক আগে যিনি মাথায় করে পাথর বয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেই টুলু কীভাবে বর্তমানে বীরভূমের পাথর ও বালি মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হলেন, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুলুর অনুমতি ছাড়া জেলা থেকে পাথরবাহী কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারত না।

জুলাই মাস এলেই যেন দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে পড়ার এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে উদ্ধার হয়েছিল কোটি কোটি টাকা, আর চার বছর পর একই সময়ে বীরভূমের এই অভিযানে মিলল যকের ধনের হদিশ। উদ্ধারকৃত টাকার অঙ্ক যে হারে বাড়ছে, তাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অভিযান প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বর্তমানে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ এলাকাটিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্য ও তার অবৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং পুরো ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি তথ্যের নিখুঁত যাচাই-বাছাই চলছে। বীরভূমের এই ঘটনা যে আগামী দিনে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসবে, সে বিষয়ে একমত ওয়াকিবহাল মহল।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%