নাইজারে অপহৃত মার্কিন মিশনারি কেভিন রাইডআউট নয় মাস পর মুক্ত

নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশি সময় অপহৃত থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন মার্কিন মিশনারি কেভিন রাইডআউট। ইভানজেলিক্যাল মিশনারি সংস্থা ‘এসআইএম ইন্টারন্যাশনাল’-এর পাইলট রাইডআউটকে গত বছরের ২১ অক্টোবর বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময় তিন সশস্ত্র ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে তার মুক্তির খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে রাইডআউট মার্কিন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। শিগগিরই তিনি তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, কেভিন রাইডআউটকে নিয়ে এফবিআই কর্মকর্তাদের একটি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে বা কোন প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন, তা এখনো অস্পষ্ট। একইভাবে, তার বন্দিদশার শেষ দিকে কারা তাকে আটক রেখেছিল, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অপহরণের পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে, তাকে নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলীয় তিল্লাবেরি এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে আল-কায়েদা এবং আইএসআইএল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাইডআউট সম্ভবত প্রতিবেশী দেশ মালিতে আল-কায়েদার সহযোগী গোষ্ঠী জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম-এর জিম্মায় ছিলেন। সাহেল অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো সশস্ত্র উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে। ২০২৩ সালে নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকে দেশটির সামরিক সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
