Advertisement

Wildfires force thousands to flee as blazes spread across Europe

ইউরোপজুড়ে দাবানলের ভয়াবহ তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার জেরে ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স এবং গ্রিসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুনের লেলিহান শিখা হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য করেছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টর বনভূমি ও আবাদি জমি এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভস্মীভূত হয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর ওমিশে শুক্রবার শক্তিশালী বাতাসের তোড়ে দাবানল দ্রুত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনকে স্প্লিট শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দমকল বাহিনীর প্রধান স্লাভকো তুচাকোভিচ জানিয়েছেন, লোকভা রোগোঝনিকা থেকে ওমিশ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা এক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে গেই গ্রামের দিকে দাবানল ধেয়ে আসায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাসিন্দাকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লান্দ অঞ্চলের পাইন বনে নতুন করে আগুন লাগায় ৫২৫ জন গ্রামবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা জিল ক্লাভরুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই আগুনে প্রায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং লুগলোন গ্রামের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্বে আগুনের লেলিহান শিখা পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ শতাধিক দমকল কর্মী ও ছয়টি বিমান অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গ্রিসের উত্তরভাগে হালকিদিকি অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও বনভূমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা ইউরোপ জুড়ে এই ভয়াবহ দাবানলের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। চলতি গ্রীষ্মে ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও বলকান রাষ্ট্রগুলোতে আঘাত হানা একের পর এক তাপপ্রবাহ ও তীব্র খরা পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছরই দাবানলের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%