Advertisement

রাইনএয়ারের বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে জানলা ভেঙে বিপত্তি, ধাতব ক্লান্তি শনাক্ত করল তদন্তকারী সংস্থা

গত মাসে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিঞ্জেনগামী রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক বিপর্যয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড—এনটিএসবি-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিমানটির ইঞ্জিনের একটি ফ্যান ব্লেড ভেঙে যাওয়ার পেছনে ধাতব ক্লান্তি বা মেটাল ফ্যাটিগ দায়ী। এই দুর্ঘটনার ফলে বিমানের কেবিনে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি জানালা ভেঙে গেলে এক যাত্রী আংশিক বেরিয়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হন।

ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই মাল্টা এয়ার পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটিতে। বিমানটি যখন ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় আরোহণ করছিল, তখন পাইলটরা ডান দিকের ইঞ্জিনে তীব্র কম্পন অনুভব করেন। দ্রুত সেই কম্পন বেড়ে যাওয়ার পর একটি বিকট শব্দে কেবিনের চাপ কমে যায়। ইঞ্জিনের খণ্ডিত অংশ বিমানের বডিতে আঘাত হানে এবং ১১ নম্বর সারির জানালাটি ভেঙে ফেলে। সেই সময়ে ১১এফ আসনের ৬১ বছর বয়সী এক যাত্রী জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে অন্য যাত্রীরা তাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী যাত্রীর ঘাড় ও কাঁধে গুরুতর আঘাত এবং ঘর্ষণজনিত ক্ষত সৃষ্টি হয়। বিমানে থাকা এক চিকিৎসক তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং গ্যালির একটি ধাতব বাক্স দিয়ে জানালাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে বিমানটিকে পুনরায় থেসালোনিকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। এনটিএসবি-এর তদন্ত অনুযায়ী, ভেঙে যাওয়া ব্লেডের প্রায় ৩৭ শতাংশ পৃষ্ঠতলে ক্লান্তিজনিত ফাটলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্লেডের গোড়ার দিকে বারবার চাপের কারণে এই উচ্চমাত্রার ফ্যাটিগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে পাখির পালক ও দেহাবশেষ খুঁজে পেলেও, এই পাখির আঘাতই ব্লেড ভাঙার মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, বিগত এক বছরে একই ইঞ্জিনে চারবার পাখির আঘাতের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে পাখির দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। যদিও গত বছরের নভেম্বর ও চলতি বছরের মে মাসে ইঞ্জিনের ফ্যান ব্লেডগুলোতে অতিস্বনক পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তখন কোনো ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েনি। ঘটনাটির প্রকৃত উৎস অনুসন্ধানে এনটিএসবি-এর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%