Advertisement

শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পেতে হয়রানি জাতির দীনতার বহিঃপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী

নিজেদের প্রাপ্য অবসরকালীন অর্থ বুঝে পেতে শিক্ষকদের দপ্তরে দপ্তরে ধরনা দেওয়া কিংবা ঘুষ দেওয়ার মতো অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া কেবল তাদের ব্যক্তিগত ভোগান্তি নয়, বরং এটি জাতি হিসেবে আমাদের চরম দীনতা ও হীনতার বহিঃপ্রকাশ। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের পাঠ দিয়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। জাতির বিবেকতুল্য এই মানুষগুলোকেই যদি দীর্ঘ সময় ধরে দপ্তরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জাজনক।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে দীর্ঘ চার বছর প্রতীক্ষার পর দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে তাদের প্রাপ্য অর্থ তুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই প্রাপ্তি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনের চরম অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তার প্রবর্তিত শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি এ সময় মরহুমা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

অবসরকালীন অর্থপ্রাপ্তির জটিলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের নানামুখী দুর্ভোগ পোহাতে হতো, এমনকি ঘুষ লেনদেনের একটি অলিখিত নিয়মও যেন চালু হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই বৃত্ত ভেঙেছে এবং এখন শিক্ষকরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাচ্ছেন।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। সরকার সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেই শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

0%
0%
0%
0%