যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত বাজারে বিটিএসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা ও রেকর্ড ভাঙা সাফল্য

বিশ্বসংগীতের আকাশজুড়ে বিটিএস এখন এক অপরাজেয় শক্তির নাম। মার্কিন সংগীতের মূলধারায় এই দক্ষিণ কোরিয়ান বয়ব্যান্ডটির প্রভাব যে কত গভীর, তা যেন প্রতিমুহূর্তে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে জানান দিচ্ছে। সংগীতবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লুমিনেটের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতশ্রোতাদের মধ্যে বিটিএসের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। দেশটির প্রায় ৪২ শতাংশ সংগীতপ্রেমীর কাছে বিটিএস একটি অতি পরিচিত নাম, যেখানে সাধারণ শিল্পীদের গড় পরিচিতির হার মাত্র ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মার্কিন শ্রোতাদের হৃদয়ে বিটিএস তার রাজকীয় আসনটি শক্তভাবেই গেঁথে রেখেছে।
বয়সভেদেও বিটিএসকে ঘিরে উন্মাদনা যেন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে আঠারো থেকে চব্বিশ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের ৫৯ শতাংশই বিটিএসের ভক্ত। শুধু নাম জানা নয়, দলটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। লুমিনেটের তথ্য অনুযায়ী, বিটিএস সম্পর্কে অবগত শ্রোতাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশই তাদের পছন্দ করেন, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এটি দলটির ক্যারিয়ারের অন্যতম এক মাইলফলক।
বিটিএসের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর অভাবনীয় রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে অ্যালবামটি ৫ লাখ ১৬ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কপিই ছিল ভিনাইল ফরম্যাট। ১৯৯১ সালের পর কোনো মিউজিক ব্যান্ডের ভিনাইল বিক্রির ইতিহাসে এটি একটি অবিস্মরণীয় রেকর্ড। সিডির সনাতন ধারার বাইরে গিয়ে ভিনাইল বিক্রিতে এই অভূতপূর্ব সাড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিটিএস এখন আর কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ব্যান্ড নয়, বরং মূলধারার পপ সংগীতে এক নতুন বিপ্লবের নাম।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও বিটিএস অপ্রতিরোধ্য। প্রকাশের প্রথম ১৬ সপ্তাহে ‘আরিরাং’-এর গানগুলো বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৭০ কোটিবার শোনা হয়েছে। সেই সাথে তাদের পুরনো গানগুলোর ক্রমবর্ধমান স্ট্রিমিং মিলিয়ে দলটির গানের মোট স্ট্রিমিং সংখ্যা ৮৭০ কোটিতে পৌঁছেছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের বিরতিতে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর অ্যালবামটির বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষ দশের তালিকায় ফিরে আসা, দলটির জনপ্রিয়তার গ্রাফটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।
বিটিএসের রেকর্ড লেবেল বিগ হিট মিউজিকের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে বিটিএস এখন আর শুধু নির্দিষ্ট কিছু ভক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দলটি সফলভাবে মূলধারার সংগীতশ্রোতাদের এক বিশাল গোষ্ঠীকে নিজেদের অনুরাগী করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। গ্লোবাল আইকন হিসেবে বিটিএস যে প্রতিনিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এই পরিসংখ্যানই তার উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
