Advertisement

নব্বইয়ের দশকে মুভি মাফিয়াদের চাপে অশ্লীল গানে কণ্ঠ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কুমার শানু

নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই সুরের মূর্ছনায় মোড়ানো এক স্বর্ণযুগ, আর সেই যুগের প্রাণভোমরা ছিলেন কুমার শানু। একের পর এক মেলোডি দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা এই কিংবদন্তি শিল্পী সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বিদ্ধ করেছেন অতীতের সেই বিতর্কিত সময়কে। কেবল ব্যক্তিগত জীবনের একাকীত্ব বা রোমান্টিক দর্শনের আলোচনাই নয়, বরং নব্বইয়ের দশকের ‘মুভি মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য ও শিল্পীদের ওপর তাদের প্রবল চাপের কথা প্রকাশ্যে এনে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অত্যন্ত রুচিশীল গায়ক হিসেবে পরিচিত কুমার শানু স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়কার ইন্ডাস্ট্রি মোটেও স্বচ্ছ ছিল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের চাপে পড়ে তাঁকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিতর্কিত গান গাইতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই সময়ে মুভি মাফিয়াদের দাপট এতটাই ছিল যে, অধিকাংশ শিল্পীকে নিজের আদর্শ বিসর্জন দিতে হতো। তিনি বরাবরই অশ্লীল ও কুরুচিকর গানের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন, তবুও দু-একটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই গ্লানি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।

বিজ্ঞাপন

১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ সিনেমার মাধ্যমে সাফল্যের তুঙ্গে ওঠা কুমার শানু ‘সাজন’, ‘সড়ক’, ‘দিওয়ানা’, ‘বাজিগর’ কিংবা ‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’-র মতো সিনেমার গান দিয়ে বলিউডকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। টানা পাঁচ বছর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের রেকর্ড গড়া এই শিল্পীর কণ্ঠে ‘মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়’ বা ‘এক লাড়কি কো দেখা’-র মতো গানগুলো আজও অমর হয়ে আছে। অগণিত ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই নিজের নৈতিক জায়গা থেকে বিচ্যুত হননি, বরং গায়কী ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছেন।

বর্তমানেও সৃজনশীলতার আলোয় আলোকিত কুমার শানু। সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আহমেদ সিদ্দিকীর লেখা এবং রাজা আলির সুরে ‘আয়ে মেরে ওয়াতান’ গানটি প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় গানটি শেয়ার করে আবেগাপ্লুত শিল্পী লিখেছেন, কিছু গান কেবল গাওয়ার জন্য নয়, বরং তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করার জন্য, বাঁচিয়ে রাখার জন্য। অতীতের সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আজও তিনি প্রমাণ করে চলেছেন, প্রকৃত শিল্পীর কাছে সুরের শুদ্ধতাই শেষ কথা।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%