চা বাগানের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করবে সরকার

সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের চা বাগানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চা শিল্পের সংকট নিরসনে পরবর্তী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আট দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন শ্রমিক নেতারা। এ সময় তারা চা শ্রমিকদের বর্তমান দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৪০০ টাকায় উন্নীত করার জোরালো দাবি জানান। এছাড়া চা শ্রমিকদের বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা, সুলভ আবাসন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, চা শ্রমিকরা দীর্ঘকাল ধরে চরম আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্য না থাকায় নিত্যপণ্য কেনা তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি শ্রম আইনে ছুটি, গ্র্যাচুইটি ও উচ্ছেদসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে চা-অধ্যুষিত এলাকায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, সরকারি চাকরিতে চা জনগোষ্ঠীর কোটা সংরক্ষণ এবং ২১টি উপজেলায় ‘চা জনগোষ্ঠী শিল্পকলা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাকি ৬৭টি চা জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে গেজেটভুক্ত করা এবং ঐতিহাসিক ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের দিন ২০ মে-কে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানান তারা।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের অধিকার রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে পংকজ এ কন্দ, নিপেন পাল, বিজয় হাজরা, পরেশ কালিন্দী, রাজু গোয়ালা, ধনা বাউরী, কমল বুনার্জী, দেবু কাউরী ও রতন পালসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের দাবিসমূহ ধৈর্যসহকারে শোনার পর মন্ত্রী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেন।
