গলেতে দেবদূত পাডিক্কালের ব্যাটে অপ্রতিরোধ্য ভারত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ঘুচল তিন নম্বর পজিশনের দীর্ঘ আক্ষেপ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, গলের মাঠে তা যেন হাতে-কলমে প্রমাণ করলেন দেবদূত পাডিক্কাল। সিরিজের শুরুতে ১১ দিন সময় পাওয়ার সিদ্ধান্তটি যে কতটা কার্যকর ছিল, তার যথার্থ উদাহরণ হয়ে উঠলেন এই ব্যাটার। প্রথম দিনের খেলা শেষে ১৪২ বল খেলে অপরাজিত ১৩১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে এসএলসি একাদশের বিপক্ষে ১৬৪ বলে ১৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন পাডিক্কাল। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের বিপক্ষে টানা ৩৪২ বল কোনো উইকেট না হারিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন এই তরুণ ব্যাটার।
গলের শান্ত ও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ম্যাচের শুরুতে পিচ ছিল বেশ ব্যাটিং-বান্ধব। যশস্বী জয়সোয়াল ও লোকেশ রাহুল বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু করলেও, জয়সোয়ালের দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের পর ক্রিজে নামেন পাডিক্কাল। ড্রিংকস ব্রেকের পরপরই মাঠে নেমে কোনো জড়তা ছাড়াই শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন তিনি। কেশারা নুয়ান্থার প্রথম বলে বাউন্ডারি এবং পরবর্তী ওভারে প্রবাথ জয়াসুরিয়াকে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের জানান দেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাডিক্কাল ১৭৮ বলের ইনিংসে ১৩৮টি বলই খেলেছেন স্পিনারদের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কান বোলাররা তাকে পরাস্ত করতে অনেক চেষ্টা করলেও, পাডিক্কালের স্পিন খেলার নিখুঁত প্রস্তুতি তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। ব্যাকফুটে খেলে এবং দারুণ রিচ ব্যবহার করে সুইপ শট খেলার কৌশল ছিল তার সাফল্যের চাবিকাঠি। লাহিড়ু কুমারা কিংবা আসিথা ফার্নান্দোর পেস আক্রমণও তার মনোযোগে চিড় ধরাতে পারেনি। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনে এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকলেও, ফেরার পর আবারো নিজের ছন্দ ফিরে পান তিনি।
দিনের ৫৭তম ওভারে নুয়ান্থার বলে কিছুটা পরাস্ত হলেও দ্রুতই নিজেকে সামলে নেন পাডিক্কাল। একই ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তার এই ইনিংসকে সম্মান জানিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভারতের তিন নম্বর পজিশন নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে যে অনিশ্চয়তা চলছিল, পাডিক্কালের এই ইনিংস সেখানে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে শুভমান গিলের পর ভারতের কোনো তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন পাডিক্কাল। দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮৮ রান। পাডিক্কালের এই পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের নীতিনির্ধারকদের জন্য অবশ্যই একটি বড় বার্তা হয়ে থাকবে।
