অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে কাঁপন ধরিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বাংলাদেশ

ডারউইনের মাটিতে টানা দুই দিন আধিপত্য বজায় রাখার পর তৃতীয় দিনেও নিজেদের ছন্দ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুললেও, জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে সফরকারীরা। প্রতিপক্ষের চেয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয়ের পথে বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে, যা গত সাত বছরে যেকোনো সফরকারী দলের জন্য সর্বোচ্চ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে বাংলাদেশের শেষ চার উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ১১৮ রান যোগ করে। এর মধ্যে তৃতীয় সকালে আসে ৭৫ রান, যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ২০০ রানের বেশি লিড এনে দেয়। জশ হ্যাজলউড ৮৯ রানে ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামালেও, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান ছিল অসাধারণ। এছাড়া তানজিদ হাসান তামিম ১০১ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়ে অজিরা। দলীয় শূন্য রানে জেইক ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তিনি। পরবর্তীতে ট্রাভিস হেডকেও সাজঘরে ফেরান এই পেসার। ল্যাবুশেনকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। এরপর স্টিভ স্মিথ এবং ক্যামেরন গ্রিন জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও, মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ৪৪ রানে স্মিথ আউট হয়ে ফিরলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে অ্যালেক্স কারির সাথে মাঠ ছাড়েন। তবে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া এবং বর্তমান ব্যাটিং বিপর্যয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। সফরকারীরা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়, লক্ষ্য মাত্র একটাই—ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ নেওয়া।
