অধিনায়কত্ব হারানোর ক্ষোভ ভুলে অজিদের দুর্গে মিরাজের দুরন্ত লড়াই

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে মিরাজের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ছিল, তাই তাকে কেবল নিজের খেলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও হঠাৎ এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি মানসিকভাবে বড় ধাক্কা হতে পারত। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুশীলনী ম্যাচে শতক এবং বর্তমান টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মিরাজ প্রমাণ করেছেন যে, নেতৃত্বের ভার হারিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন।
অধিনায়কত্ব হারানোর পর দলে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করার কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বেশ পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়ানডে অধিনায়কত্ব হারানোর বিষয়টি মেনে নিয়েছেন এবং এই মুহূর্তে তার লক্ষ্য কেবল বল হাতে সঠিক জায়গায় বল করা ও ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজন মেটানো।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে যখন তানজিদ হাসান, লিটন কুমার দাস এবং মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দ্রুত হারিয়ে বাংলাদেশ ধুঁকছিল, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান এবং তানজিদের শুরুর ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল দল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় নতুন বলে সেই সম্ভাবনা মলিন হতে বসেছিল। তবে মিরাজ লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা সফরকারীদের চালকের আসনে বসিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ ৩৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও দ্রুতই হাসান মাহমুদকে হারায়। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তবে মিরাজ এক প্রান্ত আগলে রেখে ১১৭ বলে ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন। পুরো ইনিংসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করা মিরাজ হাসান মাহমুদের সঙ্গে ৪৬ রান এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরও ৪৬ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করেন। ব্যাট করার সময় পার্টনারদের ওপর আস্থা রেখে তাদের উজ্জীবিত রাখাই ছিল মিরাজের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও মিরাজ ছিলেন উজ্জ্বল। প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা স্টিভেন স্মিথকে ৪৪ রানে ফিরিয়ে অজিদের বড় ধাক্কা দেন এই অফ-স্পিনার। মিরাজের নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং গতির বৈচিত্র্যের কাছে পরাস্ত হন স্মিথ। নিজের বোলিং পরিকল্পনা সম্পর্কে মিরাজ জানান, স্মিথের মতো ব্যাটারকে রান করার সুযোগ না দিয়ে চাপে রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য, যার সুফল পেয়েছেন তারা।
ম্যাচের ফলাফল নিয়ে এখনই বড় কোনো স্বপ্ন না দেখে ধাপে ধাপে এগোতে চান মিরাজ। উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে অনায়াস জয়ের সুযোগ দিতে নারাজ তিনি। মিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গেই জানান, প্রতিটি উইকেট পেতে তাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে এবং বাকি দুই দিনে তিন উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াটাই তাদের মূল লক্ষ্য। অজিদের বিপক্ষে বড় জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত কোনো অতি আত্মবিশ্বাসে না ভুগে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।
