অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশের অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে বকেয়া অর্থ বিতরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই বিশেষ দিনে সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর সুবিধার অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। অতীতের সরকারগুলো বড় বাজেটে জন্মদিন উদযাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষকদের অশ্রু মোছার প্রয়াস নিয়েছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ড. এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেন যে, আগের শাসনামলে এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি ব্যাংকে রাখা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সরকারি ব্যাংকে থাকা কিছু অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে বন্ড সম্পদ থেকে পাওয়া আয় ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষকদের দেওয়া ৪ থেকে ৬ শতাংশ অনুদান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে প্রাপ্ত বন্ড মিলিয়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীর পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে অবশিষ্ট সব অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানকে তিনি যথাযথ মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন। অতীতে অবসরের সময় শিক্ষকদের কেবল কিছু প্রতীকী উপহার দিয়ে বিদায় জানানো হতো, যা তাদের অবদানের তুলনায় ছিল অত্যন্ত নগণ্য। সেই গ্লানি থেকে মুক্তি দিতেই বেগম খালেদা জিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের যাত্রা শুরু করেছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্যমতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ বেতন প্রদানের ব্যবস্থা চালু করে তাদের সামাজিক মর্যাদার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি জানান।
